বেড়ার ঘরটি জীর্ণ।
সাধারণ মানুষের চিত্তাবিহীন জগতে কান্না-হাসির অন্তরালে কবি হারিয়ে যেতে চান।
'আশা' কবিতায় কবি মানুষের জীবনের ক্রমবর্ধমান জটিলতাকে তুলে ধরতে চেয়েছেন। তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে যাওয়ার প্রত্যাশা করেছেন। দিনমজুর ও শ্রমজীবী মানুষেরা যা রোজগার করে তা দিয়ে কোনো রকমে খেয়ে-পরে বেঁচে থাকে। তারা সমাজে অবহেলিত, নিগৃহীত হলেও তাদের এ নিয়ে কোনো আক্ষেপ নেই। তারা সম্পদ বাড়ানোর চিন্তায় ঘুম হারাম করে না, সোনা-রুপার পাহাড়ও বানাতে চায় না। এসব ভাবনা থেকে দূরে থাকে বলে তারা ভালো থাকে এবং সুখে দিন কাটায়। তাই কবি এসব মানুষের মাঝে হারিয়ে যেতে চান। তাদের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্নার অন্তরালে নিজেকে লুকাতে চান।
উদ্দীপকটি 'আশা' কবিতার মানুষকে আশাদীপ্ত করার দিকটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
সুখ-দুঃখ নিয়েই মানুষের জীবন। কারণ মানুষের জীবনে সুখ-দুঃখ পালাক্রমে আসে। কারও জীবন কেবল দুঃখের কিংবা নিরবচ্ছিন্ন সুখের আধার নয়। তাই আশাহত হলে জীবনে প্রকৃত আনন্দ লাভ করা যায় না। জীবনসংগ্রামে যে টিকে থাকে সে-ই উন্নতি লাভ করে।
উদ্দীপকে নির্ভয়ে মাথা উঁচু করে জীবনের পথে এগিয়ে চলার কথা বলা হয়েছে। এখানে নিরাশা-হতাশা দূর করে মানুষকে লক্ষ্য অর্জনের জন্য আশাদীপ্ত হতে কবি অনুপ্রাণিত করেছেন। উদ্দীপকের কবির এ অনুপ্রেরণা 'আশা' কবিতায় প্রতিফলিত মানুষকে আশাদীপ্ত করার দিকটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এ কবিতায় কবি লক্ষ্য অর্জনে মানুষকে বিত্ত-বৈভব অর্জনের লোভ, অলীক কল্পনায় মিথ্যা সুখের প্রত্যাশা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন এবং নিজেকে অন্যের কল্যাণে নিয়োজিত করতে বলেছেন। উদ্দীপকে বিপদে ভয় না পেয়ে সাফল্যের আশা নিয়ে কাজ করতে বলা হয়েছে। এ দিকটি 'আশা' কবিতায়ও প্রতিফলিত হয়েছে।
"সাদৃশ্য থাকলেও 'আশা' কবিতার মূলভাব এবং উদ্দীপকের মূলভাব পুরোপরি এক নয়।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
কর্মহীন জীবন সুখী নয়। প্রকৃত সুখ প্রত্যাশী মাত্রই পরিশ্রমের মাধ্যমে জীবনপথে এগিয়ে যায়। তারা আকাশ-পাতাল কল্পনা করেও জীবনের মূল্যবান সময় নষ্ট করে না। তারা মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগ করে।
উদ্দীপকে জীবন চলার পথে নানা সমস্যা-জটিলতা মোকাবিলা করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা দানে কিছু যুক্তি প্রদান করা হয়েছে। নিরাশ হয়ে ওষুধ না খেলে যেমন রোগ আরও বৃদ্ধি পায়, তেমনই পর্বতে আরোহণ করে ভয়ে মাথা ঘুরে গেলে নিচে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়। কাজেই তুফানের ভয়ে মাঝির হাল ছেড়ে দেওয়া যেমন উচিত নয়, তেমনই বিপদের ভয়ে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়াও যৌক্তিক কাজ নয়। আশা ও দৃঢ় মনোবল নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়াই প্রকৃত কর্মীর সাফল্যের উপায়। 'আশা' কবিতার সঙ্গে এ দিকটির মিল রয়েছে। এ দিকটি ছাড়াও এ কবিতায় আরও কিছু বিষয় আছে যেগুলো উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়নি।
'আশা' কবিতায় কবি গতানুগতিক জীবনের বাইরে এসে নিরন্ন মানুষের জীবনের সুখের সঙ্গে শরিক হতে চেয়েছেন। এ বিষয়টি উদ্দীপকে নেই। 'আশা' কবিতায় কবি সেসব মানুষের সান্নিধ্য প্রত্যাশা করেছেন, যারা বিত্ত-বৈভব অর্জনের জন্য দুর্ভাবনায় নিজেদের আয়ু কমায় না, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আনন্দানুভূতিকে বাঁচার অবলম্বন করে সুখ অনুভব করে, যারা কষ্টেও হাসতে পারে এবং সারা দিন কাজের পর নির্ভাবনায় ঘুমাতে পারে। উদ্দীপকে এসব বিষয় নেই। তাই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!